নেশা ?

 




আজ একটা লেখা পড়লাম, বেশ সময় উপযোগী আর ঠিক লাগল। আমরা সবাই সামাজিক মাধ্যম এর ওপর নির্ভর হয়ে গেছি। আর এই সামাজিক মাধ্যম কোম্পানি আর আমাদের টানার জন্য aritificial intelligence এর অনেক বেশি কাজে লাগাচ্ছে । আমরা যা দেখতে, বলতে, লিখতে ভালবাসি, এরা আমাদের কাছে সেটাই পৌঁছে দেয় । তার একটা ভুল ফল হল যে আমরা মনে করি যে আমার যা চিন্তা ধারা, একই চিন্তা ধারা পৃথিবীর বেসিরভাগ মানুষের। আমরা নিজেদের মতের বিরোধিতা না দেখে দেখে এক রকম নেশাগ্রস্ত হয়ে যাই আর বিরোধিতা করা বা বিরোধী তর্ক টা সম্পূর্ণ ভুল মেনে নিয়ে সেটার প্রতি হিংস্র হয়ে যাই। আমাদের নিজেদের বুদ্ধির ওপর বিশ্বাস আমরা অনেকে হারিয়ে ফেলেছি। গুগাল এ যা দেখলাম, তা সত্য মেনে চলি। ইন্টারনেট এ ভিডিও দেখে সত্য মনে করি। খবর পোর্টাল এ কিছু দেখে সত্য মনে করি। সত্য মিথ্যা যাচাই করার মানসিকতা হারিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক কোম্পানি গুলর মেশিন হয়ে যাচ্ছি ।

 কথা টা ঠিক কি না ভেবে দেখুন। আপনারা একমত হবেন যে নেশাগ্রস্ত হ‌ওয়া ভাল না। ক্রমেই মানুষ এক পক্ষ এর বা অন‍্যপক্ষ হয়ে যাচ্ছে। কোনো মানুষের আলাদা পরিচয় নেই। সবার সময় হয় না সত‍্যি এবং কারো না কারো ওপরে নির্ভর ক‍রতে ভাল লাগে; কিন্তু এই নির্ভরশীলতা আত্মঘাতী।


সংবাদমাধ‍্যমে শুধুই রাজনীতি। আর রাজনীতি মানে শুধুই দল‌। ধর্মের ক্ষেত্রেও তাই। সেও একধরণের দলবাজী। কাউকে মননশীল বক্তব‍্য রাখতে দেখি না। কেবল বিতর্কের সৃষ্টি করা। সবসময় কেবল দ্বন্দ! কিসের এত দ্বন্দ? আমরা মানুষকে কেবল প্রতিযোগীতা শেখাই। সহযোগীতা শেখাই না। এক আদিম দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে বসবাস করি। তাই সমাজ থেকে থেকেই বিপন্ন হয়। শুনেছি নরমুন্ড নিয়ে ফুটবল খেলা হত একসময়। না বুঝেই ফুটবল নিয়ে একবিংশ শতাব্দীতেও ফুটবল নিয়ে সেই উদ্দীপনা এব‌ং উন্মাদনা। কেউ ভেবেও দেখে না কি তার সার্থকতা। ছদ্ম মানুষের দুরবস্থা সম্পর্কে উদ্গার। এবং এর‌ই নাম করে কত গবেষণা, কত তত্বকথা। কিন্তু সেই ধর্মগ্রন্থ আঁকড়ে বসে থাকে। কারো চেষ্টা নেই হাঁসের মত দুধটুকু কেবল ছেঁকে নেওয়ার‌ ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে। কেউ বলে না সমন্বয়ের কথা। কেবল দ্বন্দ আর দ্বন্দ! সুতরাং কোনো না কোনো বিষানু এসে মানুষকে বিপন্ন করে দিয়ে চলে যাবে। কিন্তু মানুষের শিক্ষা হবে না। মানুষ তার দ্বন্দে  অস্ত্রশস্ত্র বানাবে। কোনো নবনীতি প্রতিষ্ঠা নিয়ে অথবা নীতিহীনতায় মানুষ মানুষকে মারবে।  প্রকৃতি ধ্বংস করবে। এবং শেষে নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

2 comments:

  1. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete
  2. একদম সত্যি আর সঠিক। আজ মানুষের বুদ্ধি খাটিয়ে খুঁজে বের করতে কষ্ট হয় আর রেডি মেঢ খাবারের মতো রেডি মেঢ নোলেজ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সত্যি মিথ্যে যাচাই করার ধার ধারে না আর যা দেখে মিডিয়াতে সেটাই বিশ্বাস করে সেটাকে সত্যি ভেবে ঝগড়া করে।

    ReplyDelete