ঈশ্বরকে মানুষ বানাবেন না
হ্যাঁ, ঈশ্বরকে ঈশ্বর থাকতে দিন, মানুষ বানাবেন না।
আমাদের সমাজে আমরা এমন যেকোনো ব্যক্তিকেই ঈশ্বর, পরমেশ্বর বা ভগবান বলে দিই যাকে আমরা শ্রদ্ধা করি—যেমন মাতা, পিতা, গুরু ইত্যাদি। কিছু সময় আগে পর্যন্ত স্বামীকেও পরমেশ্বর মনে করা হতো। আজকাল অনেক ধর্মগুরু নিজেকে ঈশ্বর বা ঈশ্বরের অবতার বলে দাবি করেন এবং ভক্তরা তাঁদের পূজা করেন। এমনকি রাজনৈতিক নেতাদেরও মন্দির তৈরি হয়।
এ ছাড়া অজস্র দেবী-দেবতা তো রয়েইছেন।
আমার অনুরোধ, আপনারা ঈশ্বরকে মানুষ বানাবেন না, আর মানুষ কে ঈশ্বর করবেন না। শ্রদ্ধাভরে কাউকে ‘ঈশ্বরস্বরূপ’ বলাটা কেবল একটা সম্মান প্রদর্শন মাত্র, তার বেশি কিছু নয়।
আমরা সবাই জানি যে ঈশ্বর চর, অচর, চল, অচল, সাকার, নিরাকার, সগুণ, নির্গুণ, দয়াল, ভয়াল, স্রষ্টা, আবার সংহারকও। তিনি জন্ম ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বে; লোভ, ত্যাগ, ভয়, ক্রোধ, মোহ, অহংকার, সত্য, মিথ্যা, ঘৃণা ইত্যাদির অতীত। তিনি নিরাকার হলেও প্রকৃতিতে সাকার।
অথচ তাঁকে নিজের কাছাকাছি টানার জন্য আমরা তাঁকে মানুষের মতো বানিয়ে দিই—যেমন কোনো প্রজা তার জমিদারকে খুশি করার চেষ্টা করে, ঠিক সেভাবেই আমরাও ঈশ্বরকে খুশি করতে চাই। এমনকি তাঁর অনুচর বা সহচরদের কল্পনা ও সৃষ্টি করে তাঁদেরও সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করি।
একটি উদাহরণ দিই: ভস্মাসুর শিব ঠাকুরের কাছ থেকে বর পেয়ে তাঁকেই ভস্ম করার জন্য তাঁর পেছনে ধাওয়া করেছিল, আর শিব ঠাকুর তখন নিজেকে বাঁচাতে ভয়ে পালিয়েছিলেন। এবার একটু ভেবে দেখুন, যিনি জন্ম ও মৃত্যুর অতীত, যিনি শরীর নন বরং পরম আত্মা—তাঁর মৃত্যুর ভয় হতে পারে? কখনোই না! এটা কেবল আমাদের ভাবনা যে, আমরা ভয় পাই বলেই আমাদের ঈশ্বরও ভয় পান!
একইভাবে আমরা ঈশ্বরের বিয়ে দিই, পুত্র-পৌত্রাদির জন্ম দিই।
এটা কি সত্যিই প্রয়োজন?
— অনুপ মুখার্জী "সাগর"

No comments:
Post a Comment