আরে ভাই হাঁ,
আমিও ফেল করেছি।
আজ এক পুলিশ ওয়ালা এলো,
কাগজ ও কিছু দেখতে চাইলো,
এমনি তে কিছু নেতা তো বলেছিলো
চাইলে কেউ কাগজ, দেখাবেনা
নেতাদের কথায়, আমি চলতাম না।
হায়রে পোড়া কপাল আমার,
কাগজ তখন ছিলনা, আমার,
ধরিয়ে গেলো সে যে আমাকে,
নিজের মনের চারটি, ক্ষণিকা।
বাসায় ফিরে মেয়ে কে বললাম,
মাগো আমার, আজ ফেল করলাম,
তৎক্ষণাৎ সে লাফিয়ে উঠল,
হে ভগবান, একি, কি করে হল?
তুমিও কি ফেল করলে?
ফেল যে তোমার ও ঘাড়ে চাপলো,
এ তো, বোধ হয় প্রথম ঘটলো!!!
আমি হেসে ফেললাম, নারে মা,
পাস করতাম যে সময়ে,
ফেল তখনও করেছিলাম ,
মনে পড়ে গেলো, সেই দুর্ঘটনা।
সেই ক্লাস নাইন, নতুন ইস্কুল এর ব্যাপার,
ক্লাসে সব থেকে ভদ্র, মাটির মানুষ, তার।
সে যে ছিলাম আমিই, টিচার'রা সবাই
জানত আমি, অনেক ভালো।
মানত সবাই, সব ছাত্র হবে উনিশ,
আমি তাদের থেকে নিশ্চয়ই একুশ!
অঘটন ঘটার ছিল, ঘটল সাংঘাতিক,
অঙ্কের মাস্টার মশাই, হলেন যেন রাক্ষস,
১০০-র মধ্যে নাম্বার দিলেন মোটে একুশ।
উত্তরপত্র দেখে আমার
প্রাণ টা গেলো শুকিয়ে ,
জিভ তালুতে আটকে গেল,
খিদে গেল উবে।
খিদে গেল উবে, তেল নিতে গেল সব স্বপ্ন,
সন্ন্যাসী হতে চলে যাই,
সেই তো এক মাত্র উপায় মিলল।
নাম্বার পেয়েছি অংকে, ১০০-র মধ্যে একুশ,
বাড়ি তে দেখালে পরে,
জুতো পড়তো অন্তত বিশ।
দুদিন কাটলো, মহাভারতের আশঙ্কায়,
খাতা টিচার রেখে দিয়েছেন,
এ কথাই জানালাম বাড়িময়।
তৃতীয় দিন সকাল হতেই,
ক্লাস টিচার ডাকলেন,
বড়ো ভালোবাসায় আমায়,
কেঁপে উঠলো আমার কায়া।
শরীরের খোঁজ নিলেন,
বললেন শরীর খারাপ নাকি?
ঠোঁট রইলো সিলমোহর,
মন শুধু চাইল ঈশ্বরের দয়া।
ঈশ্বর শুনলেন মনের কথা,
কাজে এসে গেল,
তাঁর একটি দরকারি কথা
হঠাত মনে পড়ে গেল।
বললেন তুই সবচেয়ে ভদ্র,
আজ আমার সাথে বোস,
কাল থেকে দুই সপ্তাহের ছুটি,
দুর্গা পুজোর মাস।
সব ছাত্রদের নাম্বারের তালিকা বানাই,
তুই উত্তরপত্র তোল,
আর নাম্বারগুলো বলে যা।
শয়তান এসে ভর করলো
আমার জিভের ওপর,
বিপদের আভাস যদিও
পাচ্ছিলাম ভেতর-ভেতর।
একুশের জায়গায় বলে দিলাম একচল্লিশ,
পিষে দিলাম নিজেরই আত্মসম্মানে বিষ।
ক্লাস টিচারের কোনো সন্দেহ হলো না,
বুক ধড়ফড়ানি, থমকে,
গেল যেন এক লহমা।
ক্লাসের সবচেয়ে সরল শিশু
সবার চোখে ছিলাম আমি জানো,
বোধহয় নিজের নজরে
নিজেই পড়ে গেলাম , শোনো।
নিজের কাছে সেদিনই করলাম এক প্রতিজ্ঞা,
অংককে আর কখনো ,করবো না অবজ্ঞা।
তারপর আর কখনো অংক ভয় দেখায়নি,
এমন ধোঁকাও আমি আর কখনো কারুখে দিইনি।
ফেল তো জীবনে মা, অনেকবার হয়েছি,
পাস ছিনিয়ে নিতে ফেলের সাথে লড়েছি।
পাস-কে আগে পাওয়ার, জামানার এই দৌড়ে,
অন্যকে ফেল করিয়ে, নিজের পাসের দৌড়ে,
ফেল-ও পেয়েছি গন্তব্যে এসে,
তাকেও জড়িয়ে ধরেছি, ভালোবেসে।
পাস-কে, ফেল-কে, দুঃখ-সুখ, সব কিছুকে ,
প্রতিযোগিতায় মেতে আছে,
সবাই, এগিয়ে যেতে হবে।
পাস-কে কাছে রাখতে চেয়ে,
ফেল থেকে দূরে পালায়ে।
কাল পাস ছিলাম, আজ ফেল হলাম,
কাল আবার পাস হবো,
সময়ের চক্রে, আমি সদাই থাকবো।
যদি ভুলবশত মস্তানি ভুল হয়েও যায়,
ভুল শুধরে নাও, এগিয়ে চলো ভাই।
কাগজ আবার নতুন করে বানাবো,
কাল তো আর ফেল হবো না ভাই।।
**মূল কবি:** অনুপ মুখার্জী "सागर"
x

No comments:
Post a Comment